
নুরুল ইসলাম আসাদ,উজিরপুর, বরিশালঃ
বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আট দিন পর মারা গেছেন যুবক সোহেল মাঝি (৩২)। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত সোহেল মাঝি স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা সোবাহান মাঝির পুত্র। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঘটনার দিন ১১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একই এলাকার পলাশ মাঝির সঙ্গে তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় পলাশ মাঝি ইট ছুঁড়ে মারলে তা সোহেল মাঝির মাথায় গুরুতরভাবে আঘাত করে। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রথমে সোহেলকে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানান। পরে তাঁকে বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়। শেবাচিম হাসপাতালেও অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরিবারও আশায় বুক বেঁধে দ্রুত তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যায়।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর সোহেলকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর মাথার আঘাতকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। টানা আট দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মঙ্গলবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়, দুশ্চিন্তা এবং পরিশ্রমে পরিবার বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবার ও স্বজনরা জানান, ন্যায্য বিচার ছাড়া তাঁরা শান্তি পাবেন না।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, “ঘটনার পরদিনই হামলার অভিযোগে একটি মামলা নেওয়া হয় এবং মামলার দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন সোহেল মাঝির মৃত্যু হওয়ায় মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যে বা যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে, সোহেলের মৃত্যুর পর বিকেলে উজিরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। শান্তিপ্রিয় সোহেলের এমন মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, “একটি তুচ্ছ বিষয় যদি একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, তবে এমন ঘটনা যে কোনো সময় আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই বিচার অবশ্যই জরুরি।”
Share this content:



Post Comment